উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোসা: হাফসা আক্তার, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
গ্রেফতারকৃত তসলিম বাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাই ইজিবাইকের ক্রেতা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে বাদীর উপস্থিতিতে ও তার সনাক্তকরণের মাধ্যমে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে উক্ত চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়াও এ সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মামলার বাদী মাসুদ রানা একই সময়ে একদিকে যেমন তার প্রিয় বাবাকে চিরতরে হারিয়েছেন, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ইজিবাইকটিও চুরির শিকার হয়েছে। শোক, অসহায়ত্ব ও অনিশ্চয়তার সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি এক গভীর মানবিক সংকটের মুখোমুখি হন।বাদীর এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি এবং তার পরিবারের কষ্ট ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশকে দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ইজিবাইকটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ চুরি হওয়া একটি ইজিবাইক উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ০৪ (চার) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।গত ০৩/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সকাল প্রায় ০৯:০০ ঘটিকায় বাদী মোঃ মাসুদ রানা (২১) তার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরবর্তীতে সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সকাল প্রায় ১১:০০ ঘটিকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট সংলগ্ন টিকা কেন্দ্রের সামনে ইজিবাইকটি রেখে তিনি বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভেতরে নিয়ে যান।তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আনুমানিক ১১:৩৫ ঘটিকায় তিনি বাইরে এসে দেখেন, যেখানে ইজিবাইকটি রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে সেটি আর নেই। একই দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ইজিবাইক চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি পুলিশ সুপার, ঠাকুরগাঁও মহোদয়কে অবহিত করা হলে তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোঃ মোমিন (৫৪) ও মোঃ বাদল কে গড়েয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের আরও দুই সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫৩) এবং মোঃ তসলিম বাবু (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়।প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ