উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হাফসা খাতুন, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারত। বাংলাদেশের সঙ্গে আসাম, মণিপুর, ত্রিপুরা, কাছাড় ও সিলেটের মতো বিশাল অঞ্চল যুক্ত থাকত, ফলে এর আয়তন হতো বর্তমানের দ্বিগুণ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ১৯০৫ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক শিপিং হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পেত বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সাংবাদিক মোহাম্মদ হাসান শরীফ জানান, ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর বাংলায় শুরু হওয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। লর্ড কর্নওয়ালিসের ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করার ফলে মুসলিম কৃষক ও সমাজ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে পূর্ববঙ্গের শোষিত মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রথম সুযোগ হিসেবে আসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ। ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্টের মতে, ভাইসরয় লর্ড কার্জনের এই বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি মুসলমানদের কলকাতার জমিদার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্ত করা। এই পদক্ষেপ সমগ্র উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক চেতনা জাগ্রত করে এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে তোলে। তবে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে রাজা পঞ্চম জর্জের বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণায় পূর্ববঙ্গ আবারও শোষিত মফস্বলে পরিণত হয়। উল্লেখ্য, তৎকালীন বিশাল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লাখ এবং আয়তন ছিল ১,৮৯,০০০ বর্গমাইল। বিভাজনের পর গঠিত ১,০৬,৫০৪ বর্গমাইলের ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের রাজধানী করা হয়েছিল ঢাকাকে, যার মোট জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ১০ লাখ। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি চাকরিতে প্রবেশাধিকার এবং মুসলিম শিক্ষার প্রসারে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।