উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হাফসা খাতুন, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যের চারাগাছ লাখ টাকায় কেনা এবং পুরোনো জলাশয়কে নতুন পুকুর দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া কেবল আংশিক উদ্বোধনের ফিতা কাটতেই ব্যয় করা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা, যা ২০১৯ সালের বহুল আলোচিত বালিশ-কাণ্ডের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে ব্যয়ের কিছু পরিবর্তন হতে পারে তবে প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সীমার বহুগুণ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। পরবর্তীতে পোস্ট-ফ্যাক্টো বা পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে তা বৈধ করার মানসিকতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীন চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়মকে নীতিগত নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে বৈধ করা হলে তা ভবিষ্যতে সব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া আর অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে। আজ উন্নয়ন স্থবির হয়ে যাওয়ার অজুহাত তুলে দুর্নীতির ফাইল চাপা দেওয়া হলে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা অধরা থেকে যাবে। স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত একটি স্বাধীন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত প্যানেল গঠন করে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত ব্যয়ের পোস্ট-ফ্যাক্টো বৈধতা দেওয়ার প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আত্মসাৎ করা প্রতিটি পয়সা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা এবং দেশি-বিদেশি পরামর্শক কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান-যাদেরই হাত থাকুক না কেন রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জনগণের করের টাকায় লুটের মহোৎসব চললে সেই তথাকথিত আধুনিকতার কোনো মূল্য থাকে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের এই ভয়াবহ অনিয়মের সুরাহা না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধারাবাহিক অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে না।