উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হাফসা খাতুন, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বর্ণিত অন্যতম শিক্ষণীয় ঘটনা হলো স্বৈরাচারী ফেরাউনের পতন। ইতিহাসে চরম জালেম ও দাম্ভিক হিসেবে পরিচিত মিশরের এই শাসকের সলিল সমাধি ঘটেছিল ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিনে। মূলত ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ ছিল প্রাচীন মিশরের শাসকদের উপাধি। মহান আল্লাহ হজরত মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দিয়ে ফেরাউনকে একত্ববাদের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছিলেন। তবে অতি অহংকারী ফেরাউন নিজেকে মিশরের 'রব' দাবি করে মুসা (আ.)-এর দেখানো নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। জুলুমের একপর্যায়ে সে বনি ইসরাইল জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালায়। মুসা (আ.) যখন অনুসারীদের নিয়ে মিশর ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন ফেরাউন সসৈন্যে তাদের পিছু ধাওয়া করে। এ সময় মহান আল্লাহ অলৌকিকভাবে লোহিত সাগরকে দুই ভাগে ভাগ করে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের পার হওয়ার রাস্তা করে দেন। কিন্তু ফেরাউন ও তার বাহিনী সেই রাস্তায় প্রবেশ করলে লোহিত সাগরের পানি পুনরায় একত্রিত হয়ে তাদের সলিল সমাধি ঘটে। সুরা ইউনুসে বর্ণিত রয়েছে, ডুবে মরার আগমুহূর্তে ফেরাউন বিশ্বাস করার কথা বললেও তা কবুল হয়নি। তবে মহান আল্লাহ তার মৃতদেহ রক্ষা করেছিলেন যেন তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় নিদর্শন হয়ে থাকে। আজ অবধি মিশরের জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই দেহটি ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের এই দিনে রোজা পালন করতে দেখে কারণ জানতে চান। তারা হযরত মুসা (আ.)-এর অলৌকিক মুক্তির কথা জানালে নবীজি (সা.) বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর আদর্শ পালনে আমরাই তাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সুন্নত অনুযায়ী ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম দুটি রোজা পালনের নির্দেশ দেন।