উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিউজ ডেক্স ||
কোটচাঁদপুর: ভালোবাসার টানে বিয়ে, এরপর স্ত্রীর সুখের জন্য প্রবাসে রক্তপানি করা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম। কিন্তু সেই উপার্জনের সব টাকা স্ত্রীর নামে দেশে পাঠিয়ে আজ নিঃস্ব দুবাই প্রবাসী রাকিবুল। শুধু টাকা আত্মসাৎ নয়, সুপরিকল্পিত চক্রান্ত করে প্রবাস থেকে ফিরিয়ে এনে চাকরিচ্যুত করা, প্রমাণ নষ্ট করতে মোবাইল ভেঙে ফেলা এবং সবশেষে এনসিপি নেতা পরিচয়দানকারী স্ত্রীর দুলাভাইয়ের প্রাণনাশের হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে।ভুক্তভোগী প্রবাসী রাকিবুল (যার নিজ বাড়ি বরিশাল কুয়াকাটায়) এক অডিও বার্তায় এই অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২০ সালে কোটচাঁদপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে সেলিনা খাতুনকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন। পরিবার মেনে না নেওয়ায় তারা প্রথমে চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরবর্তীতে পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি দুবাই পাড়ি জমান। প্রবাস জীবনের উপার্জিত সমস্ত অর্থ ব্যাংক, বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্ত্রীর কাছে পাঠাতে থাকেন তিনি। এমনকি ২০২৩ সালে স্ত্রীকে দুবাই নিয়ে গিয়ে তিন মাস ঘুরিয়েও আনেন।কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সেলিনা খাতুন হঠাৎ তাকে ডিভোর্স দেন। খবর পেয়ে রাকিবুল দেশে ছুটে এলে সেলিনা নতুন করে সংসার করার শর্ত হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। নিরুপায় রাকিবুল ২ লাখ টাকা নগদ এবং ৮ লাখ টাকার চেক দিতে রাজি হলেও, সেলিনা তা প্রত্যাখ্যান করে তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় রাকিবুল তার কাগজপত্র উদ্ধার করেন।ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। মীমাংসার কথা বলে সেলিনার ভগ্নিপতি (দুলাভাই) হৃদয়, হৃদয়ের স্ত্রী ও ভাই এবং সেলিনা খাতুন রাকিবুলকে চুয়াডাঙ্গা থানায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে সুকৌশলে রাকিবুলের মোবাইল ফোনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যেন আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার কোনো ডিজিটাল প্রমাণ তার কাছে না থাকে। "আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর এয়ারপোর্টে সে বলে—আমি তোমার সাথে একটা ফান (মজা) করেছি! আমি তখন কোথায় যাব, কী করব? আমি দুবাইয়ে আমার চাকরি ও সবকিছু হারিয়ে ফেলি।" — ভুক্তভোগী প্রবাসী। সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতারণাটি ঘটে এর কিছুদিন পর। ডিভোর্সের পর সেলিনা পুনরায় রাকিবুলের সাথে যোগাযোগ করে কান্নাকাটি করেন এবং ক্ষমা চান। তার অভিনয়ে বিশ্বাস করে রাকিবুল দুবাইয়ের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে একেবারে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু এয়ারপোর্টে নেমেই তিনি জানতে পারেন, পুরোটাই ছিল তাকে চাকরিচ্যুত করে নিঃস্ব করার এক নিষ্ঠুর ফাঁদ।রাকিবুল জানান, এই পুরো চক্রান্তের 'নাটের গুরু' হলেন সেলিনার ভগ্নিপতি হৃদয়। নিজেকে কোটচাঁদপুরের 'এনসিপি নেতা' ও 'সমন্বয়ক' হিসেবে পরিচয় দেওয়া হৃদয় এমপি নির্বাচনের কথা বলে রাকিবুলের স্ত্রীর মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪-৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এখন সেই টাকা ফেরত চাওয়া এবং প্রতারণার বিচার চাওয়ায় হৃদয় ও তার সহযোগীরা রাকিবুল ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কোটচাঁদপুরে প্রবেশ করলেই তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উপরন্তু, সেলিনার সাথে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে তার নতুন স্বামী হিসেবেও দাবি করছে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় দুবাই ফিরে যাওয়া এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা এখন চরম হতাশায় ভুগছেন। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হৃদয় ও সেলিনা খাতুনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোটচাঁদপুর ও চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।