উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোসা: হাফসা আক্তার, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিক্ষার্থীরা রাত না জেগে পর্যাপ্ত ঘুমায় এবং সকালে পড়াশোনা সারে, তাদের পরীক্ষার ফলাফল রাত জাগা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক ভালো হয়। রাত জেগে পড়ার চেয়ে ভোরবেলার পড়াশোনা বেশি উপকারি এবং কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পর সকালে আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ ও সক্রিয় থাকে, যা নতুন তথ্য দ্রুত মুখস্থ ও অনুধাবন করতে সাহায্য করে। আমরা যখন রাতে পর্যাপ্ত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাই, তখন মস্তিষ্ক শর্ট-টার্ম মেমোরি বা সাময়িক স্মৃতিগুলোকে লং-টার্ম মেমোরি বা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় মেমোরি কনসোলিডেশন বলা হয়। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক একদম খালি এবং নতুন তথ্য জমা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে। পক্ষান্তরে, রাত জেগে পড়লে ব্রেন এই রিফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পায় না। মানবদেহ একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম মেনে চলে এবং গবেষণায় দেখা গেছে দিনের প্রথমভাগে মানুষের শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমोनের নিঃসরণ বেশি হয়। এই হরমোনগুলো আমাদের মনোযোগ, সতর্কতা এবং উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়। রাতে এই হরমোনগুলোর মাত্রা কমে যায় এবং ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কগনিটিভ সায়েন্স বা জ্ঞানীয় বিজ্ঞানের মতে, সকাল পাঁচটা থেকে আটটার মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা এবং লজিক্যাল থিংকিং শীর্ষে থাকে। তাই গণিত, পদার্থবিজ্ঞান বা যেকোনো নতুন ও জটিল তত্ত্ব বোঝার জন্য ভোরবেলা সবচেয়ে সেরা সময়। এছাড়া ভোরবেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নোটিফিকেশনের আনাগোনা থাকে না এবং চারপাশের পরিবেশ নিস্তব্ধ থাকে।