উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ সোহাগ মিয়া ||
রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের সি ব্লকের খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমির মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। মাঠে থাকা অবৈধ স্থাপনা সম্প্রতি উচ্ছেদ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ডিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমি।অন্যদিকে, রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই মাঠে একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা, বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে আয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঠ ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেক্টর কল্যাণ সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, মাঠটি দখলমুক্ত রেখে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের সি ব্লকের খেলার মাঠটি রাজউকের অধীন। সেখানে ডিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের কোনো অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মাঠটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।সেক্টর কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে খেলাধুলা বা অন্যান্য প্রয়োজনে যেতে চাইলে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েন। এমনকি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।তাদের মতে, একটি আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন।এ বিষয়ে ডিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমির কর্ণধার মহসিনের নকো কাছে জানতে চাওয়া হলে, রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে সেখানে একাডেমির স্থাপনা নির্মাণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে— জবাবে তিনি স্থাপনাটিকে ‘অস্থায়ী স্থাপনা’ বলে উল্লেখ করেন।তবে মাঠটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এবং একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি খেলার মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়; এটি এলাকার শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেক্টরের কোনো শিশু বা কিশোর যদি বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলতে যেতে চায়, তবে তাকে যেন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বা বাধার মুখে পড়তে না হয়।এলাকাবাসী এই বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান চান। তাদের প্রত্যাশা, রাজউক দ্রুত মাঠটির আইনগত অবস্থান ও ব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে একদিকে মাঠের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের মাঠ ব্যবহারের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।