উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রোমানা রহমানের প্রতিবেদনঃ ||
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম হলরুমে এলপি গ্যাস বাজারজাতকরণে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন নির্ধারণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এর নিবন্ধন নম্বর ০০১৯২। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির ঠিকানা ৮ নম্বর গভর্নমেন্ট হকার্স মার্কেট, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এলপি গ্যাস বাজারজাত করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি, সিলিন্ডার লোড-আনলোডের খরচ এবং অব্যবহৃত সিলিন্ডারজনিত লোকসানের কারণে ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত কমিশন পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, জরিমানার নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের অনৈতিক ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধের দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—১. কমিশন বৃদ্ধি: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি, লোড-আনলোড এবং অব্যবহৃত সিলিন্ডারজনিত লোকসানসহ বিভিন্ন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা অথবা ৭ শতাংশ হারে কমিশন নির্ধারণ করতে হবে।২. মূল্য সমন্বয়ে নিয়ম অনুসরণ: কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করলে তা অবশ্যই বিইআরসির ঘোষণার মাধ্যমে করতে হবে।৩. সরবরাহ বন্ধ থাকা কোম্পানির সিলিন্ডার রিফিল: যেসব কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, সেসব কোম্পানির সিলিন্ডার সরকারি উদ্যোগে অথবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে রিফিলের ব্যবস্থা করতে হবে।৪. চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ: কোম্পানির সরবরাহ করা চালানে অবশ্যই পণ্যের মূল মূল্য উল্লেখ থাকতে হবে।৫. পরিবহন ব্যয় পরিশোধ: যেসব কোম্পানি পরিবেশকের গুদামে গ্যাস পৌঁছে দেয় না, সেসব ক্ষেত্রে পরিবেশকদের ন্যায্য পরিবহন ভাড়া দিতে হবে।৬. যানবাহনের রেলিং নিয়ে মামলা বন্ধ: গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধু রেলিং-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ট্রাফিক পুলিশের মামলা করা বন্ধ করতে হবে।৭. অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনৈতিক ও অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব, ব্যবসায়ীবান্ধব ও ভোক্তাবান্ধব নগর গড়ে তুলতে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।