উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোসা হাবিবা আক্তার , নিজস্ব প্রতিনিধ ||
রাজধানীর আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিক বিথী আক্তার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মজনু রাজাকে (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মর্শেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।পিবিআই জানায়, আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া রূপায়ণ মাঠসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন বিথী আক্তার। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ভোরে তাঁর মা মোছা. মেরিনা বেগম কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে বিথীকে খাটের ওপর গামছা পেঁচানো অবস্থায় মৃত দেখতে পান।খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে নিহতের স্বামী মজনু রাজা পলাতক ছিলেন।পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপির নির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, মজনু রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানাধীন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।গত ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, বিথী আক্তার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী মজনু রাজা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন এলাকায় একটি অটোট্যাক্সির মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে মজনু রাজা সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফিরে এ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মজনু রাজা বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন এবং গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য শুরু থেকেই তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।