উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোসা: হাফসা আক্তার, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও সহিংসতা জনমনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গত দেড় মাসে দেড় হাজারের বেশি সদস্য গ্রেফতার হলেও মাঠপর্যায়ে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিন্দুমাত্র কমেনি। অতিরিক্ত বন্দির চাপে গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো এখন সংকটে পড়েছে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি কিশোর অবস্থান করায় সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ ও সংশোধনের সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রশ্রয় কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ। মিছিলে লোক বাড়ানো বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অনেক সময় কিশোরদের গ্যাং কালচারে উৎসাহিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী আশ্রয়দাতারা বরাবরই আইনের আওতার বাইরে থেকে যান। এছাড়া বিদ্যমান আইনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে গণ্য করায় মারাত্মক অপরাধ করেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসছে। সংশোধনাগারগুলোতে পর্যাপ্ত কাউন্সিলিং ও কারিগরি শিক্ষার অভাব থাকায় কিশোররা মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে। তাই কেবল ধরপাকড় নয়, বরং রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ, মাদকের উৎস নির্মূল এবং পরিবারের সচেতনতাই এই সংকট থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায়।