উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোসা: হাফসা আক্তার, প্রকাশক ও সসম্পাদক ||
রাষ্ট্রপরিচালনার প্রচলিত ও আমলাতান্ত্রিক ধারা ভেঙে কোনো প্রকার আগাম ঘোষণা বা প্রটোকল ছাড়া সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট প্রত্যক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসিক এলাকা এবং হকারমুক্ত ফুটপাতসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি চিকিৎসাধীন রোগী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী এবং সরকারি কর্মচারীদের মুখোমুখি হন। কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, আবার কোথাও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি জবাবদিহির বার্তা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে আইসিইউ, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা তদারকি করেছেন, এমনকি দায়িত্বে অবহেলার অপরাধে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বরখাস্তের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পরিবেশের মানোন্নয়নে সাত দিন এবং আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম প্রদান প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন ধরে যে সরকারি দপ্তরগুলো ফাইলবন্দি প্রতিবেদনে সব ঠিক আছে দেখিয়ে দায় সারত, সরকারপ্রধানের এই আকস্মিক পরিদর্শন সেই আমলাতান্ত্রিক প্রবণতায় বড় ধাক্কা দেবে। তবে এ ধরনের ঝটিকা পরিদর্শনের মূল সুফল নির্ভর করবে ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক ফলোআপের ওপর। অভিজ্ঞতা বলে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পর কিছুদিন প্রশাসন সচল থাকলেও কালক্রমে তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়, তাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আলটিমেটামগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক ইচ্ছাকে দৃষ্টান্ত মনে করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সচিব, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিভাগীয় প্রধানদেরও নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সংস্কৃতির স্থায়ী অংশে পরিণত হলে তবেই একটি জনবান্ধব আধুনিক বাংলাদেশের বিকাশ সম্ভব। প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম এবং প্রিন্ট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ এএম।