Loading stocks...

জাতীয়

দেয়াঙ পাহাড়ে ফের বন্য হাতি: আতঙ্কে দুই উপজেলার মানুষ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে ফের বন্য হাতির উপস্থিতি দেখা গেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে হাতিগুলো বাঁশখালী বনে ফিরে গেলে স্বস্তি ফিরলেও শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক ও কেইপিজেড এলাকায় নতুন করে হাতি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার ওসমান গণির বাড়ি এবং মুহাম্মদপুর এলাকার ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ একাধিক বাসিন্দার বসতঘরের পাকা দেওয়াল ভেঙে ধান বিনষ্ট করেছে হাতিটি। ক্ষতিগ্রস্ত মহিউদ্দিন জানান, শনিবার ভোররাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে দেখেন হাতি ঘরের দেওয়াল ভেঙে ধানের বস্তা টেনে নিচ্ছে। তারা কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ঘর থেকে বের হন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেয়াঙ পাহাড়ে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, জঙ্গল ধ্বংস ও কেইপিজেডসহ শিল্প স্থাপনার কারণে হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁশখালী জলদী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান জানান, ইআরটি টিম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আনোয়ারা ইউএনও মো. মহিন উদ্দিন স্থানীয়দের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে বন বিভাগকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেছেন। বিগত বছরগুলোতে এ অঞ্চলে হাতি-মানুষের সংঘাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে হাতির হামলায় নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ কাশেম ওরফে দুলাল, রেহেনা আক্তার, হালিমা খাতুন, মোহাম্মদ সৈয়দ ওরফে লুতু মিয়া এবং আকবর আলী অন্যতম। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম থাকলেও রাতে হাতির আনাগোনা বাড়লে তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। পরিবেশকর্মী রিতু পারভীন বলেন, হাতির করিডোর বন্ধ না করে বনের ভেতর তাদের খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি জানান, মানুষ আবাসস্থল ধ্বংস করছে এবং আলো, শব্দ কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরক্তি হাতিদের অশান্ত করে তুলছে। শুধুমাত্র ইআরটি বা ক্ষতিপূরণ দিয়ে সমাধান হবে না, সহাবস্থান ও হাতির আবাস সুরক্ষিত করার দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেয়াঙ পাহাড়ে ফের বন্য হাতি: আতঙ্কে দুই উপজেলার মানুষ
🔒