Loading stocks...

অস্ট্রেলিয়ায় আইনের ফাঁকফোকরে অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষ



অস্ট্রেলিয়ায় আইনের ফাঁকফোকরে অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষ

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনের সীমাবদ্ধতা ও রাষ্ট্রহীনতার সুস্পষ্ট আইনি স্বীকৃতির অভাবে আট হাজারেরও বেশি মানুষ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। নাগরিকত্ব না থাকায় তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকর পূরণে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য একটি জাতীয় আইনি কাঠামো জরুরি।

এই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি ২৩ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আসমা নাঈম উল্লাহর জীবন। দীর্ঘ ১১ বছর রাষ্ট্রহীন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেন। আসমার মা সাজেদা নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে নবজাতকের মতো নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পরিবারের কাছে ২০২৬ সাল তাই সোনালী বছর এবং এখন তারা নিজেদের অস্ট্রেলিয়ান রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেন।

মেলবোর্ন ল স্কুলের পিটার ম্যাকমুলিন সেন্টার অন স্টেটলেসনেস-এর গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এক দশকেরও বেশি সময় আগে আশ্রয়ের জন্য দেশটিতে এসেছেন। কেন্দ্রটির সহযোগী পরিচালক কেটি রবার্টসন জানান, ২০২৫ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় ৮ হাজার ১৮৩ জন রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি রয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ দেশটিতে রাষ্ট্রহীনতার কোনো অভিন্ন আইনি সংজ্ঞা বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও শরণার্থী অধিকারকর্মীরা অস্ট্রেলিয়ার আইনে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের স্থায়ী বসবাসের একটি কার্যকর পথ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাগরিকত্ব আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম রুবেনস্টাইন বলেন, বর্তমান আইনে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব না পাওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এই বিধান আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রহীনতা কনভেনশনের মানদণ্ড পূরণে যথেষ্ট নয় এবং আইনটি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীর সর্বস্ব লুট: কোটচাঁদপুরে স্ত্রীর প্রতারণা ও কথিত এনসিপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রবাসীর সর্বস্ব লুট: কোটচাঁদপুরে স্ত্রীর প্রতারণা ও কথিত এনসিপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বায়তুল মামুর মাদরাসায় অভিভাবক এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বায়তুল মামুর মাদরাসায় অভিভাবক এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ১

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ১

টাংগাইলের ধনবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ

টাংগাইলের ধনবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ

দুর্গাপুর উপজেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন

দুর্গাপুর উপজেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন

গোপালগঞ্জ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার

কাফরুলে যুবদল নেতার ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

কাফরুলে যুবদল নেতার ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

নরসিংদীর শিবপুরে তিনটি গরুকে বিষ খাইয়ে হত্যা

নরসিংদীর শিবপুরে তিনটি গরুকে বিষ খাইয়ে হত্যা

১১ দলীয় জোটে টানাপোড়েন, ৭ দলকে নিয়ে হেফাজতের নতুন উদ্যোগ

১১ দলীয় জোটে টানাপোড়েন, ৭ দলকে নিয়ে হেফাজতের নতুন উদ্যোগ

দৈনিক জিরো টেন

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


অস্ট্রেলিয়ায় আইনের ফাঁকফোকরে অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনের সীমাবদ্ধতা ও রাষ্ট্রহীনতার সুস্পষ্ট আইনি স্বীকৃতির অভাবে আট হাজারেরও বেশি মানুষ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। নাগরিকত্ব না থাকায় তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকর পূরণে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য একটি জাতীয় আইনি কাঠামো জরুরি।

এই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি ২৩ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আসমা নাঈম উল্লাহর জীবন। দীর্ঘ ১১ বছর রাষ্ট্রহীন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেন। আসমার মা সাজেদা নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে নবজাতকের মতো নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পরিবারের কাছে ২০২৬ সাল তাই সোনালী বছর এবং এখন তারা নিজেদের অস্ট্রেলিয়ান রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেন।

মেলবোর্ন ল স্কুলের পিটার ম্যাকমুলিন সেন্টার অন স্টেটলেসনেস-এর গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এক দশকেরও বেশি সময় আগে আশ্রয়ের জন্য দেশটিতে এসেছেন। কেন্দ্রটির সহযোগী পরিচালক কেটি রবার্টসন জানান, ২০২৫ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় ৮ হাজার ১৮৩ জন রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি রয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ দেশটিতে রাষ্ট্রহীনতার কোনো অভিন্ন আইনি সংজ্ঞা বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও শরণার্থী অধিকারকর্মীরা অস্ট্রেলিয়ার আইনে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের স্থায়ী বসবাসের একটি কার্যকর পথ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাগরিকত্ব আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম রুবেনস্টাইন বলেন, বর্তমান আইনে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব না পাওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এই বিধান আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রহীনতা কনভেনশনের মানদণ্ড পূরণে যথেষ্ট নয় এবং আইনটি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।


দৈনিক জিরো টেন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
মোসা: হাফসা আক্তার

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
অস্ট্রেলিয়ায় আইনের ফাঁকফোকরে অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষ
0:00 / 0:00
1x
🔒